ঢাকা , শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ , ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চক্ষুসেবায় রাণীশংকৈলে আশার আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-১৫ ০৯:৪৩:৪১
চক্ষুসেবায় রাণীশংকৈলে আশার আলো চক্ষুসেবায় রাণীশংকৈলে আশার আলো
রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:

অর্থের অভাবে দীর্ঘদিন চোখের চিকিৎসা করাতে না পারা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছে বিনামূল্যের চক্ষুসেবা কার্যক্রম। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচালিত এ উদ্যোগের মাধ্যমে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষ চোখের পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেয়েছেন। ইউএসএইড, পিপল পার্টনার ও অরবিস ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় পরিচালিত এ কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রত্যন্ত এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষুসেবা পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের চোখের বিভিন্ন সমস্যা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাণীশংকৈল উপজেলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ৫০ জনের চোখ পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষা শেষে রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চিকিৎসা, পরামর্শ ও বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হয়েছে। যেসব রোগীর উন্নত চিকিৎসা কিংবা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের পর্যায়ক্রমে বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ ক্লিনিকের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া ২৭ জন চক্ষুরোগীকে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের জন্য দিনাজপুরের একটি বিশেষায়িত চক্ষু হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভোগা অসচ্ছল রোগীদের মধ্যে চিকিৎসা পাওয়ার নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।


চিকিৎসাসেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, চোখে সমস্যা থাকলেও অর্থের সংকটের কারণে এতদিন নিয়মিত চিকিৎসা করাতে পারেননি। বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ পেয়ে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন থাকা রোগীরাও দ্রুত চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, চোখের রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু সচেতনতার অভাব ও আর্থিক সংকটের কারণে গ্রামের অনেক মানুষ সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না। এ কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কার্যক্রমের আওতায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে চোখ পরীক্ষা ও রোগ শনাক্তকরণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ইউএসএইড ও অরবিস ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় রাণীশংকৈল এলাকায় টেলিস্কোপসহ প্রয়োজনীয় চক্ষু পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়েই প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন চোখের সমস্যা শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।


স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র মানুষের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে যাদের চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য বিনামূল্যের চক্ষুসেবা বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে কাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ কার্যক্রম নিয়মিত ও আরও বিস্তৃতভাবে পরিচালিত হলে রাণীশংকৈলসহ আশপাশের এলাকার আরও বিপুলসংখ্যক মানুষ উপকৃত হবেন।


অর্থের অভাবে কোনো মানুষ যেন দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে না ফেলেন, সে লক্ষ্যেই ভবিষ্যতে চক্ষুসেবা কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ